রোদ-ঝলমলে বড় বেকারি ক্যাফে, ছুটির দিনে আরাম
설날 아침, 갑자기 찾게 된 청주 대형 카페
설날 সকালে, 친가 외가 방문 전에 시간이 남아서 কোথায় যাব ভেবে একটু দ্বিধায় ছিলাম, তাই ফোনে ‘চেওংজু ক্যাফে’ সার্চ করলাম। এদিক-ওদিক দেখতেই যে জায়গাটা চোখে পড়ল, সেটা ছিল এই ই안마 টেরেস ক্যাফে। ছবিতে দেখে মনে হলো জায়গাটা বেশ বড়, আর ভাইবটাও মন্দ না। ছুটির দিন বলে অনেক জায়গা বন্ধ থাকার কথা, কিন্তু শুনলাম এখানে খোলা—তাই সঙ্গে সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সত্যি বলতে ছুটির দিনে ক্যাফেতে গেলে মানুষে গিজগিজ করবে ভেবেছিলাম, কিন্তু পৌঁছে দেখি উল্টোটা—বরং বেশ ফাঁকা। সবাই তো তখন বাড়িতে নতজানু-সালাম, পরিবারের কাজকর্মে ব্যস্ত থাকার সময়। তাই আরাম করে ঘুরে দেখার সুযোগ পেলাম। চেওংজুতে ‘হট’ বলে যে বড় ক্যাফেগুলো আলোচনায় থাকে, সত্যিই কি এটা তেমন ভালো কিনা—এখনই একদম সোজাসাপ্টা রিভিউ করে বলছি।
চেওংজু ইআনস্কোয়ারের বাহিরের চেহারা আর পার্কিং

পৌঁছে দেখি, ভাবনার চেয়েও স্কেলটা বিশাল! প্রথমে আমি এটাকে শুধু পাড়ার একটা ক্যাফে ভেবেছিলাম, কিন্তু ‘EANSQUARE’ লেখা বড় সাইন লাগানো পুরো বিল্ডিংটাই ইআনস্কোয়ার। প্রবেশপথে ‘WELCOME, ইআনস্কোয়ারে আপনাকে স্বাগতম’ ধরনের ব্যানার ঝুলছে, আর বিল্ডিংয়ের ভেতরের দিকে গাড়ি ঢোকার পার্কিংও দেখা যাচ্ছে, তাই না? পার্কিংটাই দেখে বুঝে গেলাম—এটা শুধু সাধারণ ক্যাফে না। পরে জানলাম, এই বিল্ডিংয়ে শুধু ক্যাফেই নয়—ওয়েডিং হল, রেস্টুরাঁও একসাথে চালায়, মানে একেবারে কমপ্লেক্স কালচার স্পেস। তাই পার্কিংও ২য় তলা, ৩য় তলা পর্যন্ত বড় করে রাখা—ছুটির দিনেও পার্কিং নিয়ে একদম টেনশন ছিল না।
ইআনটেরেস ক্যাফে প্রবেশদ্বার আর বেকারির চলার পথ

৪র্থ তলায় উঠে ক্যাফেতে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ল বেকারির ডিসপ্লে। ছাদে গোল গোল লাইটগুলো নরমভাবে ঝুলছে, আর বিশাল কাঁচের জানালার ওপার দিয়ে প্রাকৃতিক আলো ঢুকে পুরো জায়গাটা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাগছিল। মজার ব্যাপার হলো লেআউট—সাধারণত ক্যাফেতে ঢুকলেই কাউন্টার দেখা যায়, অথবা ব্রেডের কর্নার মাঝামাঝি থাকে। কিন্তু এখানে একদম উল্টো: আগে পুরো বেকারি কর্নারটা ঘুরে দেখতে হবে, তারপর গিয়ে পেমেন্ট কাউন্টার। মানে আগে ব্রেড বাছাই করার জন্য বাধ্যতামূলক ‘রাউন্ড’! সোজা কথা—এই স্ট্রাকচারটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। অর্ডার দিতে যেতে যেতে এমনিতেই ব্রেড দেখার সুযোগ হয়, আর না কিনব ভাবলেও চোখ বারবার আটকে যায়। ডানদিকে ওয়েডিং হলের ফটোজোনের মতো অংশও দেখা গেল, আর সামগ্রিকভাবে পরিস্কার-পরিপাটি, আধুনিক একটা ফিল—একদম “দেখতেই ভালো লাগে” টাইপ।
বেকারি শোকেসের ক্লোজ-আপ

একেবারে কাছে গিয়ে দেখলাম বাঁকানো কাঁচের শোকেসের ভেতরে ব্রেডগুলো একদমぎেぎে করে সাজানো। কিন্তু মজার কথা—এটাই সব না। এই ডিসপ্লের উল্টো পাশেও ব্রেডের পরিমাণ কম না। যারা ব্রেড ভালোবাসেন, তাদের জন্য এখানে আসলে সত্যিই “স্বর্গ” বলা যায়। ধরনও এত বৈচিত্র্যময়, আর দেখতেও টাটকা—এদিক ওদিক সবকিছুই কিনে নিতে ইচ্ছে করছিল।
ইআনটেরেসের সিগনেচার ব্রেড লাইনআপ
ক্রোয়াসাঁ ও এগ টার্ট

ক্রোয়াসাঁগুলো ঠান্ডা করার র্যাকে একদম সদ্য বের হওয়া অবস্থায় রাখা ছিল। লেয়ারগুলো ‘জীবন্ত’—দেখলেই বোঝা যায়, তাই না? সদ্য বেক করা ব্রেডের সেই আলাদা চকচকে ভাব ছিল, দেখে সত্যিই খেতে ইচ্ছে হচ্ছিল।

এগ টার্ট আর ক্রোয়াসাঁ পাশাপাশি রাখা। এগ টার্টের ওপর ক্যারামেলাইজড অংশটা দেখছেন? একদম “এখনই বেক হয়ে এসেছে” টাইপ ফিল—টাটকা টাটকা লাগছিল।

এটা ‘প্যাঁ ও শোকোলা’—লেয়ারগুলো একদম ঘন ঘন করে জমা, আর ভেতরে চকলেট আছে। রংটা গাঢ় বলে মনে হচ্ছিল স্বাদও বেশ সমৃদ্ধ হবে।

এই ক্রোয়াসাঁর ভেতরে সবুজ রঙের ফিলিং গুটিয়ে ছিল। ঠিক কী সেটা বুঝিনি, কিন্তু চকচকে ভাব দেখে পরিষ্কার—সদ্য বেক করা।
কর্ন-মেয়ো ব্রেড, স্কোন, আর একটু ইউনিক আইটেম

বেকনের এজের ওপর চিজ আর কর্ন একদম ভরে দেওয়া, তার ওপর পার্সলেও ছড়ানো। শুধু ভিজ্যুয়াল দেখেই মনে হচ্ছিল—নুন-ঝাল স্বাদে দারুণ হবে।

এটা ব্লুবেরি আর ভুট্টার দানা মেশানো স্কোন। ওপর থেকে সাদা সুগার পাউডার ছিটানো, আর ব্লুবেরির দানাগুলো টইটম্বুর করে বসানো ছিল।

কালো রঙের ডোয়ের ওপর রুকোলা আর ছোট টমেটো বসানো একদম আলাদা ধাঁচের ব্রেড। কালো ডো বলে ভিজ্যুয়ালটা সত্যিই ইউনিক লাগছিল।
ইআনটেরেসের সল্ট ব্রেড সিরিজ—এক নজরে

এটা কালো তিল ছড়ানো সল্ট ব্রেড। ওপরে সাদা লবণের দানাগুলো দেখা যাচ্ছে, আর লেয়ারও স্পষ্ট। ডোটা কালো বলে আলাদা ফিল ছিল।

কাঠের ট্রেতে সল্ট ব্রেডগুলোぎেぎে করে রাখা। চকচকে ভাব একদম ঝরে পড়ছে, আর ওপরে লবণ ঝিকমিক করছে। দেখেই বোঝা যায় টাটকা টাটকা।

‘প্লেইন সফট ব্রেড’ লেখা সাইনটা দেখছেন? কাঠের বক্সে সল্ট ব্রেড সাজানো—একেকটা দেখতে টইটম্বুর, সুন্দর করে বানানো।
মোকা সল্ট ব্রেড আর চকলেট সল্ট ব্রেড

এটা ‘মোকা সল্ট ব্রেড’। বেগুনি টোনের ডোয়ের ওপর লবণ ছড়ানো, আর একটা পিসে ভেতরের অংশ হলুদ রঙে দেখা যাচ্ছিল। রংটাই এত আলাদা যে চোখ আটকে গেল।

বাদামি ডোয়ের মধ্যে একটু হলুদ অংশ দেখা যাচ্ছে। মনে হলো চকলেট ডো, আর লেয়ারও স্পষ্ট—চকচকেও করছিল।
সত্যি কথা, এগুলোর চেয়েও অনেক বেশি ব্রেড ছিল। ক্রোয়াসাঁ, টার্ট, লোফ ব্রেড, স্যান্ডউইচ, কেক—এক কথায় অগণিত। কিন্তু সব দেখাতে গেলে পোস্টটা ভয়ংকর লম্বা হয়ে যাবে বলে, আফসোস হলেও এখানে পর্যন্তই রাখছি। আরও কৌতূহল থাকলে, নিচের ক্যাফে তথ্য সেকশন দেখলে ব্রেডের ধরন আরও দেখতে পারবেন।
ক্যাফের ভেতরে জানালার ধারের সিট


বিশাল কাঁচের জানালার ধারে টেবিলগুলো লম্বা করে সারি দিয়ে বসানো। কাঠের চেয়ারে কুশন লাগানো, আর বাইরে টেরেস দেখা যায়—এমন স্ট্রাকচার। প্রাকৃতিক আলো এত সুন্দরভাবে ঢোকে যে দিনে এলে ভাইবটা দারুণ হওয়ার কথা। বেকারি কর্নার থেকে ভেতরের দিকে যাওয়ার পথটাও চওড়া, আর ছাদ উঁচু—একদম চাপা লাগে না। সিটের মাঝের ফাঁকও বেশ, তাই আরাম করে বসে থাকা যায়।
মেইন সিটিং এরিয়া আর ইন্টেরিয়র




বেকারি কর্নার পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই বিশাল মেইন সিটিং স্পেস—একদম “ওয়াও”। ছাদ উঁচু, আর বিশাল কাঁচের জানালা দিয়ে আলো ঢুকে যে খোলা-খোলা ফিল—সত্যি বলতে দারুণ লাগছিল। সাদা টেবিল-চেয়ারগুলো বেশ ঢিলেঢালা করে বসানো, আর বড় টেবিলও আছে—গ্রুপ মিটআপও সহজে করা যাবে মনে হলো। কোথাও ছাদ থেকে গাছপালা ঝুলছে, আবার অনেক জায়গায় টব—ক্যাফের চেয়ে যেন ছোট একটা ইনডোর গার্ডেনের মতোও লাগছিল। ছুটির দিনে লোক কম ছিল বলে আরও বড় মনে হচ্ছিল, তবে সাধারণ কর্মদিবসে এখানে বেশ ভিড় হতে পারে—সেটা আন্দাজ করা যায়।
আউটডোর টেরেস সিট


ক্যাফের ভেতর দিয়ে একদম সামনে হাঁটতে থাকলে আউটডোর টেরেস বের হয়। বিল্ডিংয়ের মাঝখানটা খোলা—তাই ওপরের আকাশটা একদম খোলামেলা লাগে, আর কাঁচের ছাদের নিচে রোদ ঝরে পড়ে। সাদা টেবিল-চেয়ারগুলো বেশ প্রশস্ত করে বসানো, আর সোফা সিটও আছে—আরাম করে বসার ব্যবস্থা। তবে এখন শীত, তাই বাইরে বসা একটু ঠান্ডা। আবহাওয়া একটু গরম হলে আবার এসে টেরেসে বসলে সত্যিই দারুণ হবে মনে হচ্ছিল। বাইরে হলেও ছাদ আছে বলে রোদ পাওয়া যায়, আবার বাতাসও একটু এড়িয়ে থাকা যায়—এটাই ভালো লেগেছে।
চেওংজু ইআনটেরেস ক্যাফে—ভিজিটের মোটামুটি রায়
চেওংজু ইআনটেরেস ক্যাফেতে ছুটির সকালের এই ভিজিটটা ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি সন্তোষজনক ছিল। জায়গাটা বড়, আর বেকারির ধরন এত বৈচিত্র্যময় যে যারা ব্রেড ভালোবাসেন—তাদের জন্য একদম স্বর্গ। বিশেষ করে সল্ট ব্রেড সিরিজে প্লেইন, মোকা, চকলেট—পছন্দ করার অপশন অনেক। বসার জায়গাও প্রশস্ত, আর প্রাকৃতিক আলো এত সুন্দরভাবে ঢোকে যে দিনে এলে রোদ-ঝলমলে বড় বেকারি ক্যাফে ভাইবে একদম পারফেক্ট “ক্যাফে টাইম” হবে। আউটডোর টেরেসও আছে, তাই আবহাওয়া ভালো হলে আবার একবার আসতে ইচ্ছে করছে। ছুটির দিনে ফাঁকা ছিল বলে আরাম করে ঘুরে দেখা গেছে, তবে কর্মদিবসে এখানে মানুষ বেশ হতে পারে। চেওংজুতে বড় বেকারি ক্যাফে খুঁজছেন—এখানে একবার গেলে আফসোস হবে না।
এই পোস্টটি মূলত প্রকাশিত হয়েছিল https://hi-jsb.blog এ।