সময় থমকে যাওয়া সেট — মিস্টার সানশাইন শুটিং লোকেশন গাইড
প্রবেশের মুহূর্তেই সময় যেন থমকে যায়
টিকেট তথ্য
Admission
- 🧑 প্রাপ্তবয়স্ক (Adult) $7.50
- 🧑🎓 কিশোর (Youth) $6.00
- 👶👴 শিশু · প্রবীণ (Child · Senior) $4.50
সপ্তাহের দিনে ২০ জনের বেশি দলের জন্য ছাড় · শুধুমাত্র সরাসরি টিকেট কাটা যায়

টিকেট কেটে ভেতরে ঢোকার মুহূর্তেই মনে হয় সময় থমকে গেছে। এটা ১৯০০-এর দশকের প্রথম দিকের উন্মুক্তি যুগের (開化期) হানসং-এর (Hanseong, আজকের সিউল) রাস্তা হুবহু তৈরি করা জায়গা। একটা একটা করে হাতে বসানো পাথরের রাস্তা, সময়ের ছাপ লেগে থাকা কাঠের বাড়িগুলো, সবুজ ঘাসের ওপর পড়া গ্রীষ্মের রোদ। কিন্তু জানেন, ওই দূরে যে টেলিগ্রাফ পোল দেখা যাচ্ছে? ওটা ইচ্ছে করেই রাখা হয়েছে। ১৯০০-এর দশকে সত্যিই টেলিগ্রাফ পোল ছিল। একটা সেট বানাতে গিয়ে টেলিগ্রাফ পোল পর্যন্ত ঐতিহাসিকভাবে সঠিক রাখা হয়েছে। এই একটা ডিটেইলেই বোঝা যায়, তাই না? এটা কোনো যেনতেন জায়গা না।
গ্লোরি হোটেল — মিস্টার সানশাইন শুটিং লোকেশনের হৃদয়


এই বিল্ডিংটাই হলো গ্লোরি হোটেল (Glory Hotel)। নন্সান সানশাইন স্টুডিওতে সবার আগে চোখে পড়ে এটাই। আইভি লতা বিল্ডিংয়ের দেয়াল বেয়ে উঠে গেছে, সামনের উঠোনে একটা পুরোনো আমলের স্ট্রিট ল্যাম্প দাঁড়িয়ে আছে। প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছিল যেন সিনেমার পোস্টার! এটা কি সত্যি?
এই বিল্ডিংটা আসলে ঐতিহাসিক সনট্যাক হোটেলের (Sontag Hotel) আদলে তৈরি। সনট্যাক হোটেল ১৯০০-এর দশকের শুরুতে সিউলের জংডং (Jeong-dong) এলাকায় সত্যিই ছিল — কোরিয়ার প্রথম পশ্চিমা ধাঁচের হোটেল। মালিক ছিলেন আঁতোয়ানেত সনট্যাক (Antoinette Sontag, ১৮৫৪~১৯২২) নামের এক ফরাসি বংশোদ্ভূত জার্মান মহিলা, এবং এটা রাজপরিবারের প্রাইভেট হোটেল হিসেবে চলত। ১৯০৫ সালে উলসা চুক্তির (Eulsa Treaty) সময় জাপানি বিশেষ দূত ইতো হিরোবুমি (Ito Hirobumi) এই হোটেলে থেকে চুক্তি স্বাক্ষরে চাপ দিয়েছিলেন — এটা একটা ঐতিহাসিক জায়গাও।
মিস্টার সানশাইন (Mr. Sunshine, ২০১৮) ড্রামায় এটা মূল চরিত্রদের যাতায়াতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখানো হয়েছে। এখন প্রথম তলায় ড্রামার হাইলাইট ভিডিও ও প্রপস প্রদর্শনী আছে, আর দ্বিতীয় তলা ক্যাফে হিসেবে চলছে। ড্রামার সেই জানালার ধারে বসে এক কাপ কফি খেতে পারবেন। এটা মিস করলে সত্যিই আফসোস হবে।
গ্লোরি হোটেলের ভেতর — ড্রামার প্রপস এখনো অক্ষত

বিল্ডিংয়ের ভেতরে ঢুকলে আবারও থমকে যেতে হয়। বাইরে যে আবহ দেখেছিলেন, ভেতরেও সেটা হুবহু জীবন্ত। গাঢ় রঙের কাঠের মেঝে, ভারী ভেলভেট পর্দা, খিলান জানালা দিয়ে ঢুকে আসা প্রাকৃতিক আলো। ড্রামা শুটিংয়ের সময় আসলেই ব্যবহৃত সোফা আর আসবাবগুলো সেই জায়গায় সেভাবেই রাখা আছে। সেট ভাঙা হয়নি, এই অবস্থাতেই সংরক্ষণ করা হয়েছে। বসে ছবি তুললে সত্যিই ড্রামার নায়ক-নায়িকা হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়। শুধু অনুভূতি না, সত্যিই তাই।

ড্রামা শুটিংয়ের সময় অভিনেতারা আসলেই যেসব পোশাক পরেছিলেন, সেগুলো এখানে প্রদর্শিত আছে। ম্যানেকিনে পরানো ওই ড্রেস, শুধু প্রপস না। মিস্টার সানশাইন (Mr. Sunshine) শুটিংয়ের সময় অভিনেতা সত্যিই এটা পরেছিলেন। পাশে রাখা ফ্রেমের ছবির সাথে পোশাকটা মিলিয়ে দেখলে গায়ে কাঁটা দেয়। সত্যি বলছি। এই পোশাকটাই ওই দৃশ্যে ছিল, এই উপলব্ধির মুহূর্তে বাস্তব আর ড্রামা একাকার হয়ে যায়।
গ্লোরি হোটেল ২য় তলার ক্যাফে — ১৯০০-এর দশকে বসে এক কাপ কফি

এই জায়গাটা, ক্যাফে। সত্যিই। ড্রামা শুটিংয়ের সেই ইন্টেরিয়র সেভাবেই, সেই টেবিল সেভাবেই, সেই আবহ সেভাবেই ক্যাফে চালানো হচ্ছে। গাঢ় রঙের কাঠের পিলার, পুরোনো আমলের চেয়ার, জানালা দিয়ে ঢুকে আসা আলো। এক কাপ কফি অর্ডার দিয়ে বসে থাকলে বুঝতেই পারবেন না আপনি ২০২৬-এ আছেন নাকি ১৯০০-এর দশকে।
কিন্তু জানেন কি। সৎভাবে বলি।
এই ক্যাফেতে এমনিতে আসলে অর্ধেক মজাই পাবেন।
১৯০০-এর উন্মুক্তি যুগের (開化期) স্টাইলের পোশাক পরে আসুন। ঠিক সেই সময়ের মতো লং স্কার্ট, লেস ব্লাউজ, করসেট জ্যাকেট। চুলও খোলা রাখলে চলবে না। বেঁধে ওপরে তুলতে হবে। মেকআপও আধুনিক গ্লো মেকআপ না, একটু ক্লাসিক আর শান্ত টোনে। এভাবে এই ক্যাফেতে জানালার পাশের চেয়ারে বসে এক কাপ কফি হাতে ধরে থাকলে, সেই মুহূর্তে আপনিই ড্রামার নায়িকা। ক্যামেরা না থাকলেও একটা দৃশ্য তৈরি হয়ে যায়। আলাদা করে অভিনেতার দরকার নেই।

দেখুন তো? সবাই খালি হাতে আসেনি। লাল টুপি, ইউকাতা, লেস ব্লাউজ পর্যন্ত। এখানে আসা মানুষেরা জানেই এই জায়গাটা কীভাবে উপভোগ করতে হয়। গাঢ় কাঠের ইন্টেরিয়র, অ্যান্টিক আলো, সাদা টেবিলক্লথের ওপর একটা পানীয়। পরিবেশটাই পোশাককে সম্পূর্ণ করে দেয়। নিখুঁতভাবে সেজে না আসলেও চলবে। শুধু এই জায়গায় বসে থাকলেই একটা ছবি হয়ে যায়।

গ্লোরি হোটেল থেকে বেরোলে এরকম দৃশ্য দেখা যায়। লোহার অ্যান্টিক চেয়ার, পাথরের সিঁড়ি, মাঝখানে সবুজ গাছ। জটিল কিছু না। শান্ত আর অবসরের জায়গা। একটু বসে কিছু না করেও সময় কাটানো যায় এমন একটা জায়গা।
হানোক (কোরীয় ঐতিহ্যবাহী বাড়ি) গলি — প্রতি পদক্ষেপে যুগ বদলে যায়

আরেকটু এগিয়ে গেলে সম্পূর্ণ আলাদা একটা দৃশ্য ভেসে ওঠে। কিওয়া (কোরীয় ঐতিহ্যবাহী ছাদের টালি) ছাদ স্তরে স্তরে সাজানো হানোক (Hanok) গলি। নন্সান সানশাইন স্টুডিও বিশেষ হওয়ার কারণ এটাই। পশ্চিমা ধাঁচের বিল্ডিং, জাপানি ধাঁচের বিল্ডিং, আর কোরীয় ঐতিহ্যবাহী হানোক — সব একসাথে। ১৯০০-এর দশকের শুরুতে কোরিয়ায় সত্যিই তিনটা সংস্কৃতি পাশাপাশি ছিল। সেই চিত্র এক জায়গায় দেখা যায়। প্রতি পদক্ষেপে যেন যুগ পাল্টে যায়।

কেমন লাগছে, এই দৃশ্য? মানুষজন ওই সেতু পেরিয়ে গলির ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। পুরোনো স্ট্রিট ল্যাম্প, কাঠের বাড়ি, টেলিগ্রাফ পোল। কোরিয়ায় এরকম দৃশ্য এখন প্রায় দেখাই যায় না।
কোরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত আধুনিক হওয়া দেশগুলোর একটা। মাত্র ৫০ বছরে পুরো শহর বদলে গেছে। তাই ১৯০০-এর দশকের রাস্তার দৃশ্য বেশিরভাগই শুধু ছবিতে টিকে আছে। সানশাইন স্টুডিও বিশেষ হওয়ার কারণ এটাই। হারিয়ে যাওয়া দৃশ্যপট এই জায়গায় নিজের চোখে দেখা যায়। বিদেশি পর্যটক হলে আরও বেশি অনন্য লাগবে। কোরিয়ার বর্তমান আর অতীত পাশাপাশি থাকা এমন জায়গা খুব কমই আছে।
জাপানি স্টাইলের গলি — ঔপনিবেশিক আমলের স্মৃতি বহনকারী পথ

গলি ধরে হাঁটতে থাকলে জাপানি ধাঁচের বিল্ডিং (Japanese-style architecture) দেখা যায়। সাদা কাগজের লণ্ঠন (paper lantern), কাঠের ঝিলিমিলি দরজা, জাপানি ভাষার সাইনবোর্ড। অচেনা লাগতে পারে।
এটা ঐতিহাসিক সত্য। কোরিয়া ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের (Japanese colonial period) অধীনে ছিল। সেই সময় রাস্তায় রাস্তায় জাপানি ভাষার সাইনবোর্ড ঝুলত, কোরীয় ভাষা আর চীনা অক্ষর (Chinese characters) একসাথে ব্যবহৃত হতো। এখন আমরা যে দৃশ্য দেখছি, এটা সেই সময়ের হানসং (Hanseong) রাস্তার আসল চেহারা। সানশাইন স্টুডিও সেটাই হুবহু তৈরি করেছে। শুধু সুন্দর নাও লাগতে পারে। কিন্তু এটাই ইতিহাস। সেই অনুভূতিটাও অনুভব করাই এই জায়গাকে সত্যিকার অর্থে দেখার উপায়।
বুল্লাংশো বেকারি — সেট থেকে সত্যিকারের রুটির দোকান

এটা বুল্লাংশো বেকারি (Bullangseo Bakery)। মিস্টার সানশাইন ড্রামার শুটিং লোকেশন ছিল এই জায়গা, এখন সত্যিকারের বেকারি হিসেবে চলছে। পুরোনো কাঠের তাকের ওপর ঝুড়িতে রাখা রুটি — এই দৃশ্যটাই একটা ফটোগ্রাফ।

ভেতরে ঢুকলে ছাদ পর্যন্ত খোলা কাঠের কাঠামো চোখে পড়ে। দেয়ালে ড্রামার দৃশ্যের ছবি টাঙানো, তার নিচে রুটির প্যাকেট আর কাঁচামালের বস্তা সাজানো। সেট নাকি রুটির দোকান — এই গোলমাল করাটাই এর আকর্ষণ। এই জায়গায় একটা রুটি কিনে খাওয়াটাই একটা অভিজ্ঞতা।

দেয়ালে অভিনেতার ছবি দেখছেন? এই জায়গায় সত্যিই শুটিং হয়েছিল তার প্রমাণ। পাশে কাস্তেলা (Castella) পোস্টার আছে। কাস্তেলা পর্তুগাল থেকে জাপান হয়ে কোরিয়ায় আসা একটা কেক। ১৯০০-এর উন্মুক্তি যুগে কোরিয়ায় প্রথম আসা পশ্চিমা খাবারগুলোর একটা। এই বেকারি সেই যুগে ছিল — এটা শুধু গল্পের সেটিং না।

মডেল হলেও সত্যিই অসাধারণ সুন্দর। বাঁদিকে কাস্তেলা (Castella), ডানদিকে বিংসু (Bingsu, কোরীয় বরফ কুচি দিয়ে তৈরি ডেজার্ট)। কাঠের পাটার ওপর রাখা রঙিন কাস্তেলার কাটা অংশ দেখুন — সবুজ, হলুদ, কমলা, গোলাপি। এটা ১৯০০-এর আবহের এই জায়গায় বসে খাওয়া। স্বাদও স্বাদ, কিন্তু এই দৃশ্যটাই যেন গিলে খাওয়ার মতো।

দরজার ওপাশে যে দৃশ্য — সেটাও হিসেব করেই রাখা। রুটি বাছাই করতে করতে জানালা দিয়ে পুরোনো রাস্তা দেখা যায়। কাচের বোতলে রাখা উপকরণ, ঝুড়িতে রাখা রুটি, আর ওই পারে চীনা অক্ষরের সাইনবোর্ড ঝুলানো রাস্তা। এই দোকানের দরজাটাই যেন বর্তমান আর অতীতের সীমানা।
জাপানি মদের দোকান আর ওডেন স্টল — সেই যুগের হানসং-এর দৈনন্দিন জীবন

জাপানি দোতলা বিল্ডিং। লাল নোরেন (暖簾, noren — জাপানি কাপড়ের পর্দা) ঝুলছে, সাদা কাগজের লণ্ঠন ঝুলিয়ে দোকানের মুখ সাজানো। ডানদিকে ছোট একটা রাস্তার স্টল দেখা যায়, জাপানি ভাষায় おでん (ওডেন, Oden) লেখা। ওডেন হলো ঝোলে বিভিন্ন উপকরণ ফুটিয়ে বানানো জাপানি স্ট্রিট ফুড, যেটা এখনো কোরিয়ায় অসম্ভব জনপ্রিয়। ১৯০০-এর ঔপনিবেশিক আমলে কোরীয় খাদ্যসংস্কৃতিতে স্বাভাবিকভাবে মিশে যাওয়া খাবারগুলোর একটা।
বিল্ডিংয়ের বাইরের দেয়ালের কাঠের টেক্সচার, টালি ছাদের বাঁক, পাথরের দেয়ালের ওপর তৈরি কাঠামো। যেনতেনভাবে পার হওয়া যায় না, ডিটেইল এত বেশি। এই গলি দিয়ে হাঁটতে থাকলে নিজেই বুঝতে পারবেন না এটা কোরিয়া নাকি ১৯০০-এর জাপানের কোনো গলি। সেটাই এই জায়গার উদ্দেশ্য। সেই যুগের হানসং-এ সত্যিই এরকম গলি ছিল।

দেয়ালে ঝোলানো কাঠের মেনু বোর্ড দেখুন। জাপানি ভাষায় লেখা খাবারের নাম, পাশে দাম লেখা 錢 (জন) এককে। ১৯০০-এর দশকে আসলেই ব্যবহৃত মুদ্রার একক। কাউন্টারের ওপর ড্রামার শুটিংয়ের ছবি ফ্রেমে বাঁধানো। প্রতিটা ডিটেইলই ফেলে আসার মতো না।

তাকের ওপর দেখুন — কিমোনো পুতুল, পাখা, সাকে পিপা, চায়ের কেটলি। ১৯০০-এর জাপানি ধাঁচের মদের দোকানের (Japanese-style tavern) হুবহু চেহারা। এগুলো শুধু প্রপস সাজানো না। সেই সময় হানসং-এর আনাচে-কানাচে সত্যিই এরকম জায়গা ছিল। ইতিহাসের বইয়ে পড়া দৃশ্য চোখের সামনে।

লাল নোরেনের নিচে কাঠের স্টুল সারিবদ্ধভাবে সাজানো। নিরিবিলি ফাঁকা এই জায়গা বরং বেশি কথা বলে। ওই চেয়ারে বসে ড্রামার চরিত্ররা কী কথা বলেছিল কল্পনা করুন। মিস্টার সানশাইন (Mr. Sunshine) দেখে থাকলে এই দৃশ্যটা মোটেও অচেনা লাগবে না। না দেখলেও সমস্যা নেই। এই জায়গাই আগে কথা বলতে শুরু করে।

তাতামি (tatami) মেঝে, ঝিলিমিলি কাগজের দরজা, মাঝখানে রাখা চুলা (火爐, hibachi)। এটা ড্রামা মিস্টার সানশাইনে (Mr. Sunshine) জাপানি চরিত্র কুদো হিনার (Kudo Hina) ঘর হিসেবে দেখানো হয়েছে। কোরীয় মাটিতে শেকড় গাড়া এক জাপানির ঘর। কোরীয় ঐতিহ্যবাহী জায়গা থেকে একদম ভিন্ন অনুভূতি, তাই না? ঠান্ডা, পরিপাটি, অথচ অদ্ভুত একটা উত্তেজনা আছে। ড্রামা দেখে থাকলে এই ঘরে ঢোকামাত্র সেই দৃশ্য মনে পড়বে।

লাল কিমোনো, হাতে তলোয়ার। ড্রামার শুটিংয়ের সময় অভিনেতা আসলেই পরেছিলেন এই পোশাক। পাশের ফ্রেমের ছবির সাথে মিলিয়ে দেখলে গায়ে কাঁটা দেয়। এই পোশাকটাই ওই দৃশ্যে ছিল। সেট না, যেন ইতিহাসের এক টুকরোর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।

রাস্তার মাঝখানে একলা দাঁড়িয়ে আছে ওডেন স্টল (Oden street stall)। おでん, 準備中 (প্রস্তুতি চলছে)। এখনো খোলেনি, কিন্তু এই দৃশ্য একটাই যথেষ্ট। পেছনে হানোকের টালি ছাদ, বাঁদিকে পশ্চিমা ধাঁচের লাল ইটের বিল্ডিং — সব এক ফ্রেমে। কোরীয়, জাপানি, পশ্চিমা — এক ছবিতে সব পাশাপাশি। এটাই ১৯০০-এর হানসং-এর আসল চেহারা। যেদিকেই ক্যামেরা ধরুন, ছবি হয়ে যায়।
হানসং ইলেকট্রিক আর জংনো রাস্তা — এই সেটের বিশালতা

উঁচু জায়গা থেকে দেখা সানশাইন স্টুডিওর পূর্ণ দৃশ্য। বাঁদিকে ক্লক টাওয়ারওয়ালা লাল ইটের বিল্ডিংটা হানসং ইলেকট্রিক (漢城電氣), ডানদিকে টালি ছাদে সাজানো হানোক গলি। এক ফ্রেমে পশ্চিমা আধুনিক বিল্ডিং আর কোরীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য পাশাপাশি — এটাই ১৯০০-এর হানসং-এর আসল চেহারা। সেই সময় এই দুটো সত্যিই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল।

হানসং ইলেকট্রিক (漢城Electric Company) সামনে থেকে। লাল ইট, গোল গম্বুজের ক্লক টাওয়ার, খিলান জানালা। ১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কোরিয়ার প্রথম বিদ্যুৎ কোম্পানি, এই বিল্ডিং থেকেই হানসং-এর রাস্তায় প্রথমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছিল। শুধু সেট না, আসল ইতিহাস পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

আরও কাছে গেলে ডিটেইল জীবন্ত হয়ে ওঠে। বাইরের দেয়ালের ইটের টেক্সচার, ক্লক টাওয়ারের ওপরের লোহার অলংকরণ, খিলান জানালার সূক্ষ্ম কারুকাজ। এই বিল্ডিংয়ের সামনে দাঁড়ালে বোঝা যায় ড্রামার পরিচালকরা কেন এই সেট বেছে নিয়েছিলেন।

রাস্তার ঠিক মাঝখানে ট্রাম রেল (tram rail) বসানো। হানসং ট্রাম (漢城電車) ১৮৯৯ সালে কোরিয়ায় প্রথম চালু হওয়া ট্রাম, তখন ডংডেমুন থেকে সোডেমুন পর্যন্ত চলত। বিল্ডিংয়ের সাইনবোর্ডে চীনা অক্ষরে '朝鮮銀' লেখা, পাশে ঘোড়ার গাড়ির চাকাও রাখা আছে। এই একটা রাস্তায় ট্রাম, ঘোড়ার গাড়ি আর হানোক একসাথে থাকা সেই যুগের বিশৃঙ্খল অথচ প্রাণবন্ত পরিবেশটা ধরে রেখেছে।

花月樓 (হোয়াওলরু)। চীনা অক্ষরের সাইনবোর্ড আর হলুদ লণ্ঠন চোখে পড়ার মতো দোতলা কাঠের বিল্ডিং। হোয়াওলরু হলো ড্রামা মিস্টার সানশাইনে দেখানো একটা ইয়োজং (料亭, উচ্চমানের ভোজনশালা), যেখানে তৎকালীন উচ্চবিত্ত আর ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা আসতেন। সাদা দেয়ালে কালো কাঠের পিলার ক্রস করা কাঠামো কোরীয় ও জাপানি স্থাপত্যের মিশ্র ধাঁচ। হলুদ লণ্ঠনের আলো জ্বললে এই জায়গার আবহ পুরোপুরি বদলে যাবে বলে মনে হয়।

উঁচু থেকে দেখা জংনো রাস্তার দৃশ্য। বাঁদিকে তেগুকগি (Taegukgi, কোরিয়ার জাতীয় পতাকা) ফ্রেম ধরে রেখেছে, হোয়াওলরুকে কেন্দ্র করে ট্রাম রেল বেঁকে গেছে, পুরো রাস্তাটা প্যানোরামার মতো ছড়িয়ে আছে। এই অ্যাঙ্গেল থেকে দেখলে মনে হয় সেট না, সত্যিই ১৯০০-এর রাস্তা দেখছেন। সময় থাকলে এই উচ্চতা থেকে একবার অবশ্যই দেখুন।
হানসং ট্রাম আর দেআনমুন — আধুনিক কোরিয়ার প্রতীক

উইলো গাছের ডালপালার ফাঁক দিয়ে চত্বর দেখা যায়। ডানদিকে কাঠে তৈরি হানসং ট্রাম (漢城電車, Hanseong Tram) দাঁড়িয়ে আছে। ১৮৯৯ সালে সত্যিই চলা সেই ট্রাম। তখনকার সিউলবাসী এই ট্রাম প্রথম দেখে বলেছিল "লোহার দানব দৌড়াচ্ছে"। এখন নিরবে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই যথেষ্ট উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।

大安門 (দেআনমুন)। এটা বর্তমান দোকসুগুং প্রাসাদের দেহানমুন (大漢門) গেটের আগের নাম। বাঁদিকের বিশাল কাঠের দরজায় চীনা অক্ষর স্পষ্ট, পাশে আইভি লতায় ঢাকা লাল ইটের বিল্ডিং আর হানসং ট্রাম পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। হানোক, পশ্চিমা স্থাপত্য আর ট্রাম — এক ফ্রেমে ধরা এই দৃশ্য শুধু এই সেটেই দেখা যায়।
জংনো দোকানপাট — পুরোনো আমলের রাস্তায় হাঁটার মজা

লাল ইটের বিল্ডিংয়ের পিলারের সামনে দাঁড়ানো দর্শনার্থী। মাথার ওপরে চীনা অক্ষরের সাইনবোর্ড ঠাসাঠাসি, পিলারের টেক্সচার আর খিলান জানালার ডিটেইল কাছ থেকে দেখলে আরও সূক্ষ্ম। এরকম জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে থাকলেই স্বাভাবিকভাবে ছবি হয়ে যায়। পোশাকে একটু মনোযোগ দিলেই পারফেক্ট ব্যাকগ্রাউন্ড।

洋服裁縫店 (ইয়াংবক জেবংজম, পশ্চিমা পোশাক দর্জির দোকান)। চীনা অক্ষরের সাইনবোর্ডের নিচে কাঠের স্লাইডিং দরজা, সারি সারি চালা পিলারের দোকানপাটের গলি। তখনকার উচ্চবিত্তরা প্রথমবার পশ্চিমা স্যুট বানাতে আসতেন এরকম জায়গায়। এই দরজার সামনে উঁকি দেওয়াটাই একটা দৃশ্য।

হাঁটতে হাঁটতে পুরোনো ঘোড়ার গাড়ি (horse carriage) পেলাম। রঙ ওঠা, কাঠ ক্ষয়ে যাওয়া সেই অবস্থাতেই আছে। ১৯০০-এর দশকের শুরুতে হানসং-এ উচ্চবিত্তরা এটায় চড়ে চলাফেরা করত। ট্রাম আসার আগে ঘোড়ার গাড়িই ছিল সবচেয়ে দ্রুত যানবাহন, সেই সময়ের চিহ্ন।

কাছ থেকে দেখা গাড়ি। কাঠের চাকার শিরা, দরজার কারুকাজ, ভেতরে দেখা যাচ্ছে পুরোনো পর্দা। এই মাত্রার ডিটেইল হলে সেটের প্রপস না, প্রায় আসল প্রত্নবস্তু। নন্সান সানশাইন স্টুডিওতে এখানে একটা ছবি তোলা জরুরি।

洋品店 (ইয়াংপুমজম, পশ্চিমা পণ্যের দোকান)। আইভি লতা হানোকের টালি দেয়াল টপকে সাইনবোর্ড অর্ধেক ঢেকে দিয়েছে। SUNSHINE SALON ইংরেজি আর চীনা অক্ষর একসাথে লেখা — সেই যুগের আবহটাই ধরা আছে। এই সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুললে ব্যাকগ্রাউন্ড নিজেই সব সামলে নেয়।

লাল ইটের বিল্ডিংয়ের উঠোনে যাওয়ার পাথরের পথ। দুপাশে ছেঁটে রাখা গাছ আর ফুলের বাগান, একা হেঁটে যাওয়ার পেছন দিকটা স্বাভাবিকভাবেই একটা দৃশ্য হয়ে যায়। তাড়াহুড়ো না করলেও চলে এমন জায়গা।

একই পাথরের পথ, আরেকটু কাছের অ্যাঙ্গেল। বিল্ডিংয়ের দেয়াল আর বাগান আরও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। জানালার ধারে বেঞ্চও আছে। এখানে একটু বসে ফাঁকা মাথায় সময় কাটালেও ভালো লাগবে।
পোশাক ভাড়া — পুরোনো আমলের রূপান্তর এখানেই

洋品店 (ইয়াংপুমজম)-এর ভেতরে পোশাক ভাড়ার জায়গা। সোনালি কারুকাজ করা আয়না, গোলাকার বাল্বের আলো, কমলা ভেলভেটের চেয়ার রাখা মেকআপ রুমের মতো জায়গা। এখানে পোশাক পরে আয়নার সামনে বসলে সত্যিই অভিনেতা হওয়ার অনুভূতি হয়।

দোতলা পোশাক ভাড়ার হল। ছাদ পর্যন্ত উঠে যাওয়া কাঠের সিঁড়ি, শ্যান্ডেলিয়ারের আলো, ম্যানেকিনে পরানো কিমোনো (Kimono), হানবোক (Hanbok) আর উন্মুক্তি যুগের ড্রেস চোখের সামনে। প্রথম আর দ্বিতীয় তলা দুটোই ভাড়ার পোশাকে ভর্তি। যেকোনো স্টাইল বাছুন, এই জায়গাটাই ব্যাকগ্রাউন্ড হয়ে যাবে।

পোশাক ভাড়ার তথ্য বোর্ডের সাথে পুরোনো আমলের স্যুট পরানো ম্যানেকিন দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে রঙিন ড্রেস আর হানবোক ঝুলছে, পূর্ণদৈর্ঘ্য আয়নার সামনে নিজে পরে দেখা যায়। ভাড়ার সময় ২ ঘণ্টা। নিখুঁত কম্বিনেশন না হলেও এই জায়গায় সব মানানসই দেখায়।

ওপরে তাকালে খোলা কাঠের ট্রাস ছাদ আর শ্যান্ডেলিয়ার দেখা যায়। পুরোনো গুদামঘর রূপান্তরিত করা কাঠামো সেভাবেই আছে। প্রথম তলায় পোশাক, দ্বিতীয় তলায় আরও পোশাক ঠাসাঠাসি। শুধু এই ছাদটা দেখলেই কোথাও সিনেমার সেটে আছেন মনে হয়।

জুতো আর এক্সেসরিজের তাকের সামনে কিছু দেখাচ্ছেন দর্শনার্থী। টুপি, ব্যাগ, জুতো — সব ভাড়া করা যায়। শুধু পোশাক না, পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরোটা সম্পূর্ণ করার জায়গা। যখন এসেছেনই, অর্ধেক রূপান্তরে কী লাভ?
তিন সংস্কৃতির সহাবস্থান — ১৯০০-এর হানসং-এর আসল চেহারা

ট্রাম রেল বসানো চওড়া রাস্তার ঠিক মাঝখানে দাঁড়ালে এরকম হয়। বাঁদিকে জাপানি স্টল, ডানদিকে কোরীয় হানোকের চালা। সামনে অ্যান্টিক স্ট্রিট ল্যাম্প। এই একটা রাস্তায় পুরো যুগটাই ধরা আছে। ১৯০০-এর হানসং ঠিক এরকমই ছিল। জাপানি, পশ্চিমা, কোরীয় — এক ব্লকের মধ্যে সব একসাথে থাকা সেই অস্থির আর জটিল সময়।

জাপানি তিনতলা কাঠের বিল্ডিং আর মাটির হাঁড়ি (onggi, কোরীয় ঐতিহ্যবাহী মাটির পাত্র) স্তূপ পাশাপাশি। অমিল লাগার কথা, কিন্তু আসলে মোটেও তা না। বরং এটাই সেই সময়ের আসল দৃশ্য ছিল। দোয়েনজাং-গানজাং (কোরীয় মিসো ও সয়া সস) রাখার কোরীয় ঐতিহ্যবাহী হাঁড়ি জাপানি বিল্ডিংয়ের সামনে রাখা — সেটাই সেই যুগের দৈনন্দিন দৃশ্য ছিল। সেট সেটা সৎভাবে তৈরি করেছে।

বিশাল কাঠের দরজার ফাঁক দিয়ে হানোকের উঠোন দেখা যাচ্ছে। দরজা দিয়ে দেখা দৃশ্যটা যেন ফ্রেম করা ছবি। পেছন ফেরা একটা ফিগারই সম্পূর্ণ ছবি। সানশাইন স্টুডিওতে আলাদা করে ফটোস্পট খোঁজার দরকার নেই এই কারণেই। যেখানে দাঁড়ান, ব্যাকগ্রাউন্ড নিজেই সামলে নেয়।
হানোকের ভেতর আর শরতের রং — কোরীয় ঐতিহ্যবাহী জীবন্ত জায়গা

কোরীয় ঐতিহ্যবাহী হানোকের (Hanok, traditional Korean house) ভেতর। টালি ছাদের চালা, জাংজিমুন (韓紙 কাগজের স্লাইডিং দরজা), বারান্দার নিচে কাঠের গুঁড়ি। জাপানি বিল্ডিং বেশি মনে হলে এই জায়গায় এসে ভারসাম্য ফিরে আসে। সানশাইন স্টুডিওতে শুধু জাপানি ভাব নেই। কোরীয় নিজস্ব স্থাপত্য আর জীবনযাপনের জায়গা শক্তভাবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। এই দুটো একই জায়গায় পাশাপাশি থাকাটাই সেই যুগের ইতিহাস।

দেয়ালের ওপারে সবুজ আর লাল ম্যাপল গাছ ফেটে পড়ছে। টালির দেয়ালে আইভি লতা উঠে যাচ্ছে, পাথরের সিঁড়ি ওপরের দিকে চলে গেছে। এই দৃশ্য ঋতু বদলে আলাদা হবে। বসন্তে হালকা সবুজ, গ্রীষ্মে গাঢ় সবুজ, শরতে ওই লাল ম্যাপল আরও আগুন হয়ে উঠবে।

হানোক গলির ওপর থেকে দেখা পূর্ণ দৃশ্য। দূরে হানসং ইলেকট্রিকের ক্লক টাওয়ারের গম্বুজ দেখা যাচ্ছে, ডানদিকে উইলো গাছ ঝুলে পড়েছে, পাথরের পথ নিচের দিকে চলে গেছে। এখান থেকে দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায়। এই জায়গা শুধু জাপানি ভাবেরও না, শুধু কোরীয় ভাবেরও না। দুটো মিলেমিশে সেই যুগের হানসং-এর রাস্তা তৈরি হয়েছে। এটাই নন্সান সানশাইন স্টুডিও ড্রামা শুটিং লোকেশনের আসল আকর্ষণ।
সিউল থেকে সানশাইন স্টুডিও যাওয়ার উপায়
সিউল থেকে যাওয়ার উপায়
From Seoul to Sunshine Studio
🅰️ KTX + ট্যাক্সি — সবচেয়ে দ্রুত উপায়
ইয়ংসান স্টেশন → নন্সান স্টেশন (KTX প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০~৪০ মিনিট)
💰 একমুখী প্রায় $11~$21 (সিটের ধরন অনুযায়ী)
নন্সান স্টেশন → সানশাইন স্টুডিও (ট্যাক্সি প্রায় ২০~২৫ মিনিট)
💰 প্রায় $10~$11
⏱️ মোট সময় প্রায় ২ ঘণ্টা · মোট পরিবহন খরচ প্রায় $22~$30
🅱️ KTX + সিটি বাস — সবচেয়ে সস্তা উপায়
নন্সান স্টেশন থেকে বের হয়ে → রাস্তার অপর পাশের বাস স্টপ
🚌 201, 205, 211, 212, 216, 221 নম্বর বাসে উঠুন
📍 "হুনরিয়ওনসো ইপসোদেদে" স্টপে নামুন → পায়ে হেঁটে প্রায় ১৫ মিনিট
💰 বাস ভাড়া $1.20
⚠️ বাসের ফ্রিকোয়েন্সি ৩০ মিনিট~১ ঘণ্টা পর পর।
সময় কম থাকলে ট্যাক্সিই ভালো।
🅲 এক্সপ্রেস বাস — বদল ছাড়া একবারে
সিউল এক্সপ্রেস বাস টার্মিনাল (সাবওয়ে ৭ নম্বর লাইন) → ইয়নমুদে টার্মিনাল
⏱️ প্রায় ২ ঘণ্টা · 💰 প্রায় $7.50~$8.50
ইয়নমুদে টার্মিনাল → সানশাইন স্টুডিও (বাস বা ট্যাক্সি)
💡 সবচেয়ে সস্তা, কিন্তু সবচেয়ে বেশি সময় লাগে।
📍 সানশাইন স্টুডিও ঠিকানা: চুংনাম নন্সান-সি ইয়নমু-ইউপ বংহোয়াংনো ৯০
বুসান থেকে সানশাইন স্টুডিও যাওয়ার উপায়
বুসান থেকে যাওয়ার উপায়
From Busan to Sunshine Studio
⚠️ বুসান → নন্সান সরাসরি KTX নেই
অবশ্যই ট্রেন বদল করতে হবে। নিচের দুটো উপায় থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী বেছে নিন।
🅰️ দেজন স্টেশন হয়ে — সবচেয়ে দ্রুত কিন্তু বদল জটিল
বুসান স্টেশন → দেজন স্টেশন (কিয়ংবু লাইন KTX, প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট)
💰 প্রায় $25
দেজন স্টেশন → সোদেজন স্টেশনে যেতে হবে
🚕 ট্যাক্সি প্রায় ১০~১৫ মিনিট · প্রায় $7~$8
🚌 বাসে প্রায় ২৫ মিনিট
সোদেজন স্টেশন → নন্সান স্টেশন (হোনাম লাইন KTX/মুগুংহোয়া, প্রায় ২০~৩০ মিনিট)
⏱️ মোট সময় প্রায় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট~৩ ঘণ্টা (বদলের অপেক্ষা সহ)
🚨 সতর্কতা: দেজন স্টেশন (কিয়ংবু লাইন) আর সোদেজন স্টেশন (হোনাম লাইন) সম্পূর্ণ আলাদা স্টেশন। প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে, হেঁটে যাওয়া সম্ভব না। অফিস ছুটির সময় (বিকেল ৫টা~সন্ধ্যা ৭টা) জুংআংনো-র যানজটে ট্যাক্সিতে ২০ মিনিটের বেশি লাগতে পারে। বদলের জন্য কমপক্ষে ৪০ মিনিট~১ ঘণ্টা সময় হাতে রাখুন।
🅱️ শিনতানজিন হয়ে — ঝামেলাহীন বদল
বুসান স্টেশন → শিনতানজিন স্টেশন (মুগুংহোয়া)
💰 প্রায় $14
শিনতানজিন স্টেশন → নন্সান স্টেশন (মুগুংহোয়া বদল)
💰 প্রায় $3
✅ দেজন↔সোদেজন এর মধ্যে যাতায়াতের দরকার নেই
❌ মোট সময় বেশি লাগে (প্রায় ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট~৪ ঘণ্টা)
💡 সময়ের চেয়ে আরামদায়ক বদল গুরুত্বপূর্ণ হলে এটাই ভালো।
নন্সান স্টেশন → সানশাইন স্টুডিও: ট্যাক্সি ২০ মিনিট (প্রায় $10) অথবা সিটি বাস ৩০ মিনিট ($1.20)
সানশাইন স্টুডিওর কাছে দেখার মতো জায়গা
সানশাইন স্টুডিও + আর কোথায় যাবেন?
Nearby Attractions & Day Trip Ideas
সত্যি বলতে শুধু সানশাইন স্টুডিও দেখে ফিরলে আফসোস হবে।
নন্সান পর্যটন শহর না, তাই আশপাশের জায়গা জুড়ে নিলেই সারাদিন পরিপূর্ণ হয়।
📍 কাছে — গাড়িতে ২০~৩০ মিনিট
গাংগিয়ং জোৎগাল মার্কেট (Ganggyeong Jeotgal Market)
🚗 প্রায় ২০ মিনিট · কোরিয়ার ৩টি প্রধান ফার্মেন্টেড সামুদ্রিক খাবারের বাজারের একটা
দুপুর বা রাতের খাবার এখানে সারলে পারফেক্ট।
কাছের সামুদ্রিক নুডলসের জনপ্রিয় দোকানেও ঢুঁ মারুন।
তাপজংহো ঝুলন্ত সেতু (Tapjeongho Suspension Bridge)
🚗 প্রায় ১৫ মিনিট · নন্সানের প্রধান ফটোস্পট
সেতুর ওপর থেকে লেকের দৃশ্য দারুণ।
দোনাম সোওন (Donam Seowon)
🚗 প্রায় ২০ মিনিট · ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য (UNESCO World Heritage)
কোরীয় জোসন যুগের প্রতিনিধিত্বকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শান্তভাবে হাঁটার জন্য ভালো।
📍 মাঝামাঝি দূরত্ব — গাড়িতে ৩০~৫০ মিনিট
বুইয়ো (Buyeo) — বেকজে রাজ্যের শেষ রাজধানী
🚗 প্রায় ৩০~৪০ মিনিট
বেকজে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স (টিকেট $4.50 · দেখতে প্রায় ২ ঘণ্টা)
বুসোসানসং · গুংনামজি · জংনিমসাজি পাঁচতলা পাথরের প্যাগোডা
বেকজে ইতিহাসে আগ্রহ থাকলে অর্ধদিনের প্ল্যান হিসেবে জোর সুপারিশ।
গংজু (Gongju) — বেকজে রাজ্যের দ্বিতীয় রাজধানী
🚗 প্রায় ৪০~৫০ মিনিট
গংসানসং (টিকেট $2.25 · হাঁটতে প্রায় ১~১.৫ ঘণ্টা)
মুরিয়ং ওয়াংনিউং · জাতীয় গংজু জাদুঘর
বুইয়োর সাথে মিলিয়ে ১ রাত ২ দিনের প্ল্যান করলে পারফেক্ট।
📍 একটু দূরে — গাড়িতে ৫০ মিনিট~১ ঘণ্টা
জনজু হানোক ভিলেজ (Jeonju Hanok Village)
🚗 প্রায় ৫০ মিনিট~১ ঘণ্টা
হানবোক পরে ছবি · বিবিমবাপ · চকো পাই · মাকগোল্লি
অর্ধদিন চোখের পলকেই চলে যায়।
⚠️ খুব কাছে না। সানশাইন স্টুডিও + জনজু একদিনে করতে চাইলে খুব ভোরে বের হতে হবে। সত্যি বলতে টাইট, কিন্তু অসম্ভব না।
💡 সুপারিশ কম্বো: সকালে সানশাইন স্টুডিও → দুপুরে গাংগিয়ং জোৎগাল মার্কেট → বিকেলে বুইয়ো বা গংজু
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
FAQ
প্রশ্ন: ঘুরে দেখতে কতক্ষণ লাগে?
পোশাক ভাড়া ছাড়া ঘুরলে প্রায় ১ ঘণ্টা~১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট যথেষ্ট। পোশাক ভাড়া করলে ২ ঘণ্টা~২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ধরে রাখুন। ছবি বেশি তুলতে চাইলে অনায়াসে ৩ ঘণ্টাও লাগতে পারে।
প্রশ্ন: মিস্টার সানশাইন না দেখে থাকলেও উপভোগ করা যায়?
হ্যাঁ, পুরোপুরি উপভোগ করা যায়। ড্রামা দেখে থাকলে "আরে এটা তো সেই দৃশ্য!" এরকম মজা আছে, কিন্তু না দেখলেও ১৯০০-এর কোরিয়ার রাস্তায় হাঁটার অভিজ্ঞতাটাই বেশ অনন্য। ছবি তুলতে ভালোবাসলে ড্রামা না জানলেও সন্তুষ্টি বেশি।
প্রশ্ন: পোশাক ভাড়া কি বাধ্যতামূলক?
বাধ্যতামূলক না, কিন্তু করলে অভিজ্ঞতা সত্যিই আলাদা হয়। পুরোনো আমলের পোশাক ভাড়া অন্য কোনো পর্যটন স্থানে প্রায় করা যায় না, তাই এটা বিরল। ২ ঘণ্টার ভিত্তিতে পোশাক+এক্সেসরিজ সেট প্রায় $24। মেয়েদের পোশাকের বৈচিত্র্য বেশি, ছেলেদের পোশাক একটু কম।
প্রশ্ন: পোষা প্রাণী নিয়ে ঢোকা যায়?
যায় না। খাঁচা বা ব্যাগে রেখেও নেওয়া যায় না।
প্রশ্ন: স্ট্রলার নিয়ে ঘোরা যায়?
প্রবেশ করা যায়, কিন্তু সুপারিশ করি না। পাথরের রাস্তার অংশ অনেক, সিঁড়ি আছে এমন জায়গাও আছে, তাই স্ট্রলার চালানো কষ্টকর। বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বা বেবি ক্যারিয়ার ব্যবহার করাই ভালো।
প্রশ্ন: পার্কিং কোথায় করা ভালো?
বেশ কয়েকটা পার্কিং লট আছে। ২ নম্বর বা ৩ নম্বর পার্কিং লট টিকেট কাউন্টার থেকে সবচেয়ে কাছে। ১ নম্বর পার্কিং লট নাম শুনে কাছে মনে হলেও আসলে টিকেট কাউন্টার থেকে দূরে। পার্কিং ফ্রি।
প্রশ্ন: গ্রীষ্ম বা শীতে গেলে কেমন হয়?
বসন্ত (এপ্রিল~মে) আর শরৎ (সেপ্টেম্বর~অক্টোবর) সবচেয়ে ভালো সময়। গ্রীষ্মে ছায়া খুব বেশি নেই আর পাথরের রাস্তা থেকে গরম বাতাস ওঠে, তাই বেশ গরম লাগে। ছাতা, পানির বোতল, সানস্ক্রিন অবশ্যই নিন। শীতে খোলা মাঠের সেট হওয়ায় বাতাস খুব কনকনে। ঘরের ভেতরের জায়গাগুলোতে (গ্লোরি হোটেল ক্যাফে, ইয়াংপুমজম ইত্যাদি) মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিয়ে ঘুরুন।
প্রশ্ন: সানশাইন ল্যান্ড আর সানশাইন স্টুডিও কি আলাদা?
সানশাইন ল্যান্ড হলো পুরো এলাকার নাম, তার মধ্যে সানশাইন স্টুডিও (টিকেট লাগে), ১৯৫০ স্টুডিও (ফ্রি), মিলিটারি এক্সপেরিয়েন্স জোন ইত্যাদি আছে। মিস্টার সানশাইনের শুটিং লোকেশন সানশাইন স্টুডিও অংশে, শুধু এখানেই টিকেট (প্রাপ্তবয়স্ক $7.50) লাগে। ১৯৫০ স্টুডিও বিনামূল্যে দেখা যায়।
প্রশ্ন: ভেতরে ক্যাফে বা রেস্তোরাঁ আছে?
গ্লোরি হোটেলের ২য় তলায় ক্যাফে (সানশাইন গাবেজং) আছে। আমেরিকানো, ল্যাটে ইত্যাদি সাধারণ পানীয় পাওয়া যায়। খাবারের রেস্তোরাঁ নেই। হালকা খাবার বা লাঞ্চ বক্স আনা যায়, কিন্তু রান্নার সরঞ্জাম ব্যবহার করে রান্না করা যায় না। দুপুরের খাবার বাইরে খেয়ে আসাই ভালো।
প্রশ্ন: ইংরেজি গাইড বা তথ্য পাওয়া যায়?
আলাদা ইংরেজি গাইড ট্যুর নেই। তথ্য বোর্ডে কিছুটা ইংরেজি আছে, কিন্তু বেশিরভাগই কোরীয় ভাষায়। ড্রামা না জানা বিদেশি হলে আসার আগে মিস্টার সানশাইনের গল্পটা সংক্ষেপে জেনে গেলে অনেক বেশি মজা পাবেন।
এই পোস্টটি মূলত https://hi-jsb.blog-এ প্রকাশিত হয়েছিল।