ক্যাটাগরিcafe
ভাষাBN
February 18, 2026 at 21:34

ফটোজোন ভরা ঝলমলে মেগা ক্যাফে রিভিউ

#ইনস্টাগ্রামেবল ক্যাফে#ডেটের জন্য ক্যাফে#ফটোজোন স্পট

চেওংজুর সিওংআন-গিলের ট্যাগওন ক্যাফে: ২৫০ পিয়ং (প্রায় ৮২৫㎡) ফটোজোন ক্যাফে—সৎ রিভিউ

আজও নতুন একটা ক্যাফে খুঁজতে বেরিয়ে পড়লাম। একই জায়গায় বারবার যেতেও ভালো লাগে, কিন্তু এভাবে নানা ধরনের ক্যাফে ঘুরে দেখা—এটাই আমার কাছে বেশি মজা। সবচেয়ে বড় কথা, আপনাদেরকে নতুন নতুন ক্যাফে পরিচয় করিয়ে দিতে পারি, কাজে লাগবে এমন তথ্য শেয়ার করতে পারি—এটাই আমার আনন্দ।

আজ যে জায়গাটা বলবো সেটা দক্ষিণ কোরিয়ার চেওংজু শহরে—সিউল থেকে আনুমানিক ২ ঘণ্টা দক্ষিণে। চেওংজুর সিওংআন-গিল এলাকায় ট্যাগওন নামে একটা ক্যাফে আছে। সিওংআন-গিল হলো চেওংজুর সবচেয়ে ব্যস্ত শপিং স্ট্রিটগুলোর একটা—আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট, ব্র্যান্ড শপ, রেস্তোরাঁ—সব একসাথে, এক কথায় শহরের “মেইন কমার্শিয়াল জোন”। ওই গলির ভেতরের দিকে, মানুষজন ডেট বা দেখা-সাক্ষাৎ করতে যেটা নিয়মিত যায়, সেখানেই ট্যাগওনের অবস্থান। মূল ভবন আর আলাদা ভবন মিলিয়ে মোট ২৫০ পিয়ং, মানে প্রায় ৮২৫㎡—একটা বিশাল মেগা ক্যাফে। শুনেছি ঋতু বদলালেই ইন্টেরিয়রও বড় করে বদলায়। বিশেষ করে ক্রিসমাস সিজনে নাকি পুরো দোকানটাই বিশাল এক ফটোজোনে বদলে যায়—ভাবলেই কেমন রোমাঞ্চ লাগে!

চেওংজুর ট্যাগওন ফটোজোন ক্যাফের রাতের বাইরের দৃশ্য, পুরো বিল্ডিংজুড়ে রঙিন আলো ঝলমল করছে | 하이제이에스비

পৌঁছেই ‘ওয়াও’—ট্যাগওনের রাতের বাহিরটাই চাপিয়ে দিল!

ট্যাগওনে ঢোকার আগেই মুখ থেকে বেরিয়ে গেল, “ওয়াও… এটা তো সত্যি পাগলাটে!” আমি রাতে গিয়েছিলাম—পুরো বিল্ডিংটা ঝিকঝিক করে জ্বলছিল। বড় করে ‘#1’ সাইন দেখা যায়, আর তার নিচে রঙিন আলো আর ডেকোরেশনের ছড়াছড়ি। ভবনটা মূল অংশ আর আলাদা অংশে ভাগ করা, কিন্তু দুটো মিলে এমনভাবে সাজানো যে মনে হয়—একটা বিশাল ফটোজোন সেট। দিনে গেলে হয়তো আরেক রকম লাগতো, কিন্তু রাতে আলোয় জায়গাটা আরও স্বপ্নিল, আরও সুন্দর। সত্যি বলতে, “চেওংজুতে এমন জায়গা আছে?”—এমন ভাবনা মাথায় চলে এলো। শুরুটাই ছিল একদম দুর্দান্ত।

ট্যাগওন ক্যাফের বাইরের টেরেস, সাদা ভবনে গোলাপি স্ট্রাইপ ছাউনি ও প্যারাসল—ডেটের জন্য সুন্দর ক্যাফে ভিউ | 하이제이에스비

ইউরোপের গলি মনে হওয়া বাইরের টেরেস

এটা বাইরের টেরেস স্পেস। সাদা ভবনের গায়ে গোলাপি স্ট্রাইপ ছাউনি—একদম ইউরোপের কোনো ছোট গলিতে এসে পড়েছি এমন ফিলিং! বাঁদিকে গাছ লাগানো, বাইরে টেবিল আর প্যারাসলও আছে—আবহাওয়া ভালো থাকলে বাইরে বসে কফি খাওয়ার জন্য একদম পারফেক্ট। ডানদিকে যে রঙিন বাতিগুলো ঝুলছে দেখছেন? রাতে এগুলো নরম আলোয় জ্বলে উঠে ভীষণ সুন্দর একটা মুড তৈরি করে।

ট্যাগওনের বাইরের বাগানের রাতের দৃশ্য, মাঝখানে ফোয়ারা, চারপাশে হট-এয়ার-বেলুন আকৃতির রঙিন আলো ও ফুলের সাজ | 하이제이에스비

রূপকথার এক দৃশ্যের মতো—বাইরের বাগানটা!

এই অ্যাঙ্গেল থেকে পুরো বাইরের বাগানটা এক নজরে দেখা যায়। মাঝখানে ফোয়ারা, আর তার চারপাশে রঙিন হট-এয়ার-বেলুনের মতো আলো আর ফুলের ডেকোরেশন গোল করে ঘিরে রেখেছে। পেছনে একটা ভবনে “হোয়াইট বার্চ” লেখা দেখা যায়, আর ডানদিকের শেষপ্রান্তে সারি সারি আউটডোর টেবিল রাখা। হলুদ, গোলাপি, নীল আলো ঝলমল করে উঠছে—দেখে সত্যিই মনে হলো রূপকথার কোনো এক দৃশ্য। চেওংজুর ক্যাফেগুলোর মধ্যে এত বড় স্কেলের বাইরের বাগান—সত্যি বলতে খুবই বিরল হবে।

ফোয়ারার সামনে ইনস্টাগ্রামেবল ক্যাফে স্পট, ৩ স্তরের ফোয়ারা ও চারপাশে রঙিন বেলুন লাইট আর ফুলে ভরা ডেকোর | 하이제이에스비

ফোয়ারার সামনে ‘লাইফ শট’ তুলতে বাধ্য করবে

ফোয়ারাটাকে আরও কাছ থেকে দেখলাম। ৩ স্তরের ফোয়ারা দিয়ে পানি ঝরছে, আর চারপাশে রঙিন বেলুন লাইট আর ফুলের সাজ গিজগিজ করছে। পেছনের ভবনের দেয়ালেও আলো ঝিকঝিক, আর হলুদ স্ট্রাইপ ছাউনি একটা সুন্দর পয়েন্ট হয়ে আছে। ফোয়ারার পানিটাও নীলচে আলোয় নরমভাবে ঝলমল করছে—রাতের মুডটা আরও স্বপ্নিল লাগছিল। এখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুললে ‘ইনস্টাগ্রামেবল’ না হয়ে উপায় নেই—সত্যি!

ট্যাগওন ক্যাফের প্রবেশদ্বার, হলুদ সাইনবোর্ড ও ছবি তোলার নিয়ম লেখা ব্যানার—ফটোজোন ক্যাফে নিয়মাবলি | 하이제이에스비

এটা প্রবেশদ্বারের দিক থেকে তোলা। ওপরের দিকে হলুদ সাইনবোর্ডে লেখা আছে “নিউট্রো হাউস”—দেখতে বেশ কিউট, আর তার নিচেই ঢোকার পথ। ডানদিকে লাল ব্যানারে বড় করে লেখা ছিল, “ট্যাগওন দোকান ব্যবহার নির্দেশনা—শুধু ছবি তোলা যাবে না।” মানে, ক্যাফে ব্যবহার করলে তবেই ছবি তোলা যাবে। শুনেই বুঝলাম—এখানে শুধু ছবি তুলে চলে যাওয়ার মানুষও নাকি অনেক! সিওংআন-গিল এলাকায় এতটা ফটোজোনের জন্য বিখ্যাত জায়গা হলে, সেটা অস্বাভাবিকও না।

ট্যাগওনের ভেতরের ঝলমলে ইন্টেরিয়র, বেগুনি কৃত্রিম চেরি ফুলের গাছ ও রঙিন বেলুন লাইট—মেগা ক্যাফে ফটোজোন | 하이제이에스비

ভাবছিলাম শুধু বাইরে সুন্দর—ভেতরটা তো আরও ‘ওভার’ সুন্দর!

ভেতরে ঢুকেই বোঝা গেল—এটা শুধু বাইরে সুন্দর না, ভেতরটাও একদম অন্য লেভেল। বেগুনি রঙের কৃত্রিম চেরি-ব্লসম গাছ ছাদ পর্যন্ত উঠে গেছে, আর তার ফাঁকে ফাঁকে রঙিন হট-এয়ার-বেলুন লাইট ঝুলছে। হলুদ, গোলাপি, নীল—রঙের এমন বাহার যে চোখ সরে না। পুরো ইন্টেরিয়রটা বেশ কিচি আর ঝলমলে। “এটা কি সত্যি ক্যাফের ভেতর?”—এমন মনে হলো। ডেকোরেশন এত বেশি যে কখনো কখনো মনে হয় ‘বেশি হয়ে গেল’, কিন্তু তারপরও… সুন্দর লাগে! “পুরো দোকানটাই ফটোজোন”—এই কথাটা একদমই বাড়িয়ে বলা না।

ছোট্ট ডেকোর কর্নার, নাটক্র্যাকার পুতুল, ছোট ক্রিসমাস ট্রি ও ঘুরন্ত মিউজিক বক্স—ডিটেইলে ভরা ইনস্টাগ্রামেবল ক্যাফে | 하이제이에스비

একটা ছোট জিনিসও ছাড়েনি—ডিটেইলসের যত্ন

ভেতরের এক কোণে ছোট্ট একটা ডেকোর কর্নার ছিল। নাটক্র্যাকার পুতুল, মিনি ক্রিসমাস ট্রি, ঘুরন্ত ক্যারোসেল মিউজিক বক্স—এমন কিউট জিনিসে ঠাসা। ওপরে ফ্রেম ঝোলানো, আর নিচের শেলফে ছোট ছোট মিনিয়েচার গ্রামের মতো সেটও দেখা যায়। প্রতিটা আইটেমে যত্নের ছাপ স্পষ্ট। এমন ছোট ডিটেইলগুলো মিলেই ট্যাগওনের আলাদা একটা “ফিল” তৈরি করে বলে মনে হলো।

জানালার পাশে আরামদায়ক বসার জায়গা, রাটান চেয়ার ও লতানো গাছ—শান্ত স্বাদের ডেট ক্যাফে মুড | 하이제이에스비

একেকটা সিট—একেকটা মুড: বসার জায়গাগুলোই আলাদা অভিজ্ঞতা

এটা বসার জায়গা। রাটান চেয়ার রাখা, আর জানালার বাইরে অন্য বিল্ডিং দেখা যায়। ছাদ থেকে লতানো গাছ নেমে এসেছে, দেয়ালে হলুদ ফুলের প্যাটার্নের পর্দা। ডানদিকে লাল শেডওয়ালা স্ট্যান্ড ল্যাম্প আর অ্যান্টিক টাইপ আসবাবও আছে। মুডটা আরামদায়ক, আবার ভিন্টেজ ফিলও। জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে কফি খেতে বেশ ভালো লাগবে বলে মনে হলো।

হলুদ পর্দা ও গোলাপি ঝুলন্ত আলোসহ চেক টাইলের ফটোজোন সিট—ইনস্টাগ্রামেবল ক্যাফে ছবি তোলার স্পট | 하이제이에스비

এখানে আবার পুরো অন্য রকম! হলুদ পর্দা একদম নামানো, ছাদে গোলাপি আলো আর ফুলের ডেকোর ঝুলছে। দেয়ালে বই আর নানা ছোটখাটো জিনিসে ভরা শেলফ, আর মেঝেতে হলুদ-বেগুনি চেক টাইল। গোলাপি দুটো চেয়ার রাখা—এই জায়গাটা নিজেই একটা ফটোজোন। চেওংজুতে ডেট করতে এলে এখানে দাঁড়িয়ে/বসে একটা ছবি না তুলে গেলে মিস হয়ে যাবে!

ভেতরের ‘ফেরেশতা ফোয়ারা’—নীল পানি, হলুদ বল ও গোলাপি ফুলের ডেকোর; কিচি স্টাইলের ফটোজোন ক্যাফে কর্নার | 하이제이에스비

ভেতরেই আছে ‘ফেরেশতা’ ফোয়ারা

এটা ভেতরের ফোয়ারা—মাঝে ফেরেশতার মূর্তি। ৩ স্তরের ফোয়ারায় নীল পানি, আর মাঝের স্তরে হলুদ বলগুলো ভেসে আছে। নিচের অংশে হলুদ আর গোলাপি কৃত্রিম ফুলও দেখা যায়। পেছনের দেয়ালে বই, ফ্রেম—আর গোলাপি ঝুলন্ত আলো। চেক মেঝে মিলিয়ে পুরোটা কিচি হলেও সুন্দর—একটা মজার, রঙিন অনুভূতি।

বেগুনি চেয়ারসহ আরেকটি বসার জায়গা, পাশে চেরি ফুলের গাছ ও শেলফে কিউট ডেকোর—মেগা ক্যাফে সিটিং মুড | 하이제이에스비

আরেকটা বসার জায়গা। বাঁদিকে চেরি ফুলের গাছ, আর ডানদিকে সাদা শেলফে কিউট কিউট ছোট জিনিসে ঠাসা। দেয়ালে একটা অনুপ্রেরণামূলক বাক্যও আছে (অর্থটা এমন—“তোমার হৃদয়টাই যেন তোমার সবচেয়ে সুন্দর জিনিস হয়”)। নিচের শেলফে কাপ আর ছোট অ্যাক্সেসরিজ টাইপ জিনিস সাজানো। বেগুনি চেয়ার, আর মেঝের চেক প্যাটার্ন—সব মিলিয়ে আলাদা ফিল। সত্যি বলতে ট্যাগওনে প্রতিটা সিটের মুড আলাদা—বিরক্ত লাগার সুযোগই নেই।

হলুদ চেক সোফা সিট, মাথার ওপর রঙিন বেলুন লাইট ও ফুল-লতা ঝুলছে—ইনস্টাগ্রামেবল ক্যাফে ‘লাইফ শট’ স্পট | 하이제이에스비

হলুদ চেক সোফা সিট—এখানে বসলে ‘লাইফ শট’ গ্যারান্টি!

এই জায়গাটার হাইলাইট হলো হলুদ চেক সোফা। ছাদ থেকে রঙিন বেলুন লাইট আর ফুল-লতার ডেকোর ঝুলছে—একেবারে ঝলমলে! হলুদ আর গোলাপি আলো টিমটিম করছে, কৃত্রিম ফুল আর লতা নিচে নেমে এসে পুরোটা আরও গ্ল্যাম করে দিয়েছে। সোফার পেছনেও ডেকোর ভরা। এখানে বসে ছবি তুললে একদম ‘ইনস্টা-রেডি’ শট আসবেই। চেওংজুতে ডেট করতে এসে যদি এই সোফায় বসতে না পারেন—সত্যি একটু আফসোস হবে!

ডেজার্ট শোকেস, হলুদ প্লেটে নানা কেক স্লাইস ও ফুলের পাপড়ি—ডেজার্ট প্রেমীদের জন্য ক্যাফে লাইনআপ | 하이제이에스비

ডেজার্ট বাছাইয়ের মজাই আলাদা—ট্যাগওনের ডেজার্ট লাইনআপ

ডেজার্ট শোকেসটা ঘুরে দেখলাম। হলুদ প্লেটে কেকের টুকরোগুলো এমন সুন্দর করে সাজানো যে শুধু তাকিয়েই মন ভরে যায়। চকোলেট কেক, গোলাপি ক্রিমের কেক, সাদা কেকের ওপর বাদাম—সবই দেখা গেল। প্লেটের পাশে হলুদ ফুলের পাপড়ি দিয়ে ডেকোর করা—ভিজ্যুয়ালটা সত্যি সুন্দর। নিচের কার্ডে মেনুর নামগুলো লেখা ছিল, আর ধরনও কম না—ভালোই ভ্যারাইটি।

বেগুনি প্লেটে তিরামিসু ও দুই ধরনের রোল কেক—রঙিন ক্যাফের ডেজার্ট প্লেটিং | 하이제이에스비

বেগুনি প্লেটে রাখা ডেজার্টও ছিল। পেছনে চৌকো তিরামিসু টাইপ কেক, আর সামনে দুই ধরনের রোল কেক। বাঁদিকে ক্রিম লাগানো রোল, ডানদিকে হলুদ রঙের রোল কেক। বেগুনি প্লেট আর কেকের রঙ—একসাথে দারুণ মানিয়েছে, শুধু দেখতেই সুন্দর লাগছিল।

পিচ ফলের মতো সাজানো কিউট কেক ও হলুদ স্কয়ার কেক—ভিজ্যুয়াল দারুণ এমন ডেজার্ট স্পট | 하이제이에스비

ভিজ্যুয়াল স্পট বলেই ডেজার্টও সাজানো টপ লেভেল

আরও কিছু ডেজার্ট। বাঁদিকে হলুদ স্কয়ার কেক, আর ডানদিকে পিচ ফলের মতো করে কিউট সাজানো কেক। ওপরে ছোট ফুলও লাগানো—দেখে সত্যি “কিউট!” বলে উঠতে হয়। বেগুনি প্লেটে রাখায় আরও চোখে পড়ছে। নিচে ছোট মোমবাতির আলোও নরম করে জ্বলছিল—শোকেসটা এমনভাবে সাজানো, যেন একটা ছোট্ট প্রদর্শনী।

গোল প্লেটে ঘুরিয়ে সাজানো নানা ডেজার্ট—ম্যাচা কেক, টার্ট, চকলেট কেকসহ ভ্যারাইটি শোকেস | 하이제이에스비

এখানে গোল প্লেটে কেকের টুকরোগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সাজানো ছিল। ম্যাচা (গ্রিন টি) কেক, টার্ট, চকলেট কেক, এমনকি গাজরের ডেকোর দেওয়া কেকও এক প্লেটেই দেখা গেল। ডেজার্টের ভ্যারাইটি দেখে মনে হলো—বাছাই করাটাই একটা মজা হবে। “বিখ্যাত প্যাস্ট্রি শেফের সাথে কল্যাব” কথাটা যে এমনিই না, সেটা এখানে দেখেই বোঝা যায়।

অর্ডার করা ক্রিম ড্রিঙ্ক, কাঁচের গ্লাসে ঘন সাদা ক্রিম ও ওপরে সবুজ টপিং—ক্যাফে পানীয় রিভিউ | 하이제이에스비

ট্যাগওনে খাওয়া পানীয়—আমার সৎ রিভিউ

অবশেষে অর্ডার করা পানীয় এসে গেল! স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাসে দেওয়া, ওপরে ঘন সাদা ক্রিম বেশ মোটা করে বসানো, আর নিচে হালকা বেইজ রঙের তরল দেখা যায়। ক্রিমের ওপরে সবুজ রঙের একটু গুঁড়ো ছিটানো—কী সেটা ঠিক বুঝতে পারিনি। শুধু টেবিলে রাখা অবস্থাতেই ভিজ্যুয়ালটা সুন্দর লাগছিল।

ক্রিম ড্রিঙ্ক ক্লোজ-আপ, সবুজ গুঁড়ো টপিং ও শক্ত ঘন ক্রিম স্পষ্ট—মিষ্টি পানীয়ের টেক্সচার | 하이제이에스비

একই পানীয়টা আরও কাছ থেকে তুলেছি। এই কোণ থেকে সবুজ গুঁড়োটা আরও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ম্যাচা হতে পারে, আবার হার্ব পাউডারও হতে পারে—নিশ্চিত না। ক্রিমটা বেশ শক্ত করে বসানো, চামচে তুলে খাওয়ার জন্যও ভালো লাগছিল, আর নিচের ড্রিঙ্কের সাথে মিশিয়ে খেলে মিষ্টি আর মোলায়েম একটা স্বাদ হবে—এমনই মনে হলো। মেনুর নামটা ঠিক মনে নেই, কিন্তু ছবি দেখে সেদিনের অনুভূতিটা একদম ফিরে আসছে—এইটাই তো আসল!

ট্যাগওন ক্যাফে—শেষ কথা (মোটামুটি বিচার)

ট্যাগওনকে এক বাক্যে বললে—“চেওংজুতে ছবি তোলার জন্য সবচেয়ে ভালো ফটোজোন ক্যাফে” বলা যায়। বাইরে থেকে ভেতর পর্যন্ত এমন কোনো কোণ নেই যা ফটোজোন না। প্রায় ৮২৫㎡ জায়গাটা পুরোটা যেন একটা বিশাল কাজের মতো—একটা আর্ট ইনস্টলেশন! ঋতু বদলালেই ইন্টেরিয়র বদলায়—এটা যে বাড়িয়ে বলা নয়, এখানে এসে সত্যি বুঝলাম। বিশেষ করে ক্রিসমাস সিজনে আরও ঝলমলে করে সাজায় বলে শুনেছি—তখন আবার এলে একেবারে অন্য রকম লাগবে নিশ্চিত।

সত্যি কথা বলতে দামটা একটু বেশি। পানীয়গুলো প্রায় ৬,০০০ ওন রেঞ্জে, মানে আনুমানিক প্রায় $5-এর কাছাকাছি। ডেজার্টগুলো ৮,০০০ থেকে ১২,০০০ ওনের মধ্যে—মানে মোটামুটি প্রায় $6 থেকে $9। কিন্তু এই পরিবেশ, এই ইন্টেরিয়র, আর ‘লাইফ শট’ পাওয়ার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে দামটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্যই লেগেছে। ডেট, অ্যানিভার্সারি, বা বন্ধুদের সাথে বিশেষ আড্ডা—এমন দিনগুলোর জন্য দারুণ।

তবে একটা আফসোস আছে—আলাদা পার্কিং নেই। কাছাকাছি পাবলিক পার্কিং বা আশপাশের ভূগর্ভস্থ পার্কিং ব্যবহার করতে হয়, আর উইকএন্ডে পার্কিং স্পট খুঁজে পাওয়া একটু কঠিন হতে পারে। উইকএন্ড বিকেলে মানুষও ভীষণ বেশি থাকে, তাই আমি বলবো—সপ্তাহের কর্মদিবসে সকালে বা একটু আগেভাগে গেলে সবচেয়ে আরাম। এখানে নো-কিডস জোন, তাই শান্ত করে কফি খেতে ভালো, আর পোষা কুকুরও নাকি আনা যায়—যারা পেট নিয়ে বের হন তাদের জন্যও প্লাস পয়েন্ট।

ইন্টেরিয়র আর ফটোজোনে যার প্রাণ—আর সিওংআন-গিল এলাকায় “ফটোজোন ক্যাফে” খুঁজছেন—তাদের জন্য ট্যাগওন আমি জোর দিয়ে রেকমেন্ড করবো। আমারও ইচ্ছে, ঋতু বদলের পর আবার গিয়ে নতুন সাজটা দেখে আসি। আপনারাও যদি চেওংজুর ওই ব্যস্ত শপিং স্ট্রিটের পাশে ঘুরতে যান, একবার ঢুঁ মেরে দেখুন—ছবি আর স্মৃতি, দুটোই জমবে!

এই পোস্টটি প্রথমে প্রকাশিত হয়েছিল https://hi-jsb.blog এ।

작성일 ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ২১:৩৪
수정일 ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ২০:৩৬