বিশাল বাগান ক্যাফে – Forest Outings
গোয়াং শহরে আবিষ্কার করলাম বিশাল ক্যাফে Forest Outings
পরিবার নিয়ে গোয়াং শহরে (সিওল থেকে প্রায় এক ঘণ্টার পথ) কিছু কাজে গিয়েছিলাম। কাজ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলে কাছাকাছি কোথায় কফি খাওয়া যায় খুঁজতে শুরু করলাম। বারবার Forest Outings নামটা চোখে পড়ছিল, কয়েকটা ছবি দেখেই মনে হলো এটাই। ইলসান অঞ্চলে অবস্থিত এই বিশাল ক্যাফে প্রায় ২০০০ বর্গমিটারের – দরজা খুলতেই বোঝা যায় না ক্যাফে না বোটানিক্যাল গার্ডেন। প্রথম তলায় ঝর্ণা ও পুকুর দেখে বাচ্চারা আমার আগেই উত্তেজিত হয়ে উঠল। দোতলার ছাদ অনেক উঁচু, ইনস্টাগ্রামের সেই ফটোজেনিক জায়গাগুলো ঠিক এখানেই। পার্কিং সম্পূর্ণ ফ্রি – ভূগর্ভস্থ, স্থল ও বাইরে, পরিবারের জন্য খুব সুবিধাজনক। পোষা কুকুর ঢোকানো যায় না, তবে স্ট্রলার দোতলা পর্যন্ত যায়। আমেরিকানো প্রায় ৫ ডলার – এত বড় ক্যাফের জন্য স্বাভাবিক।
Forest Outings এ প্রবেশ করতেই ছাদের দৃশ্য

দরজা খুলতেই উপরে তাকালাম – অবাক! ছাদে বিশাল ফুলের আকৃতি, প্রজাপতি আর অসংখ্য লাইট। ছবিতে যতটা দেখা যায় তার চেয়ে অনেক বড়। অনেকে লিখেছেন খেলার পার্ক বা বোটানিক্যাল গার্ডেনের মতো – এসে বুঝলাম কেন। লাল ইটের ভবনের মাঝখানটা খোলা, নিচতলায় গাছপালা ও পুকুর, দোতলায় রেলিং ধরে বসার জায়গা। ছবি আর বাস্তবের মধ্যে অনেক তফাত। বাচ্চারা ফুল-প্রজাপতি দেখে চিৎকার করছে, আমিও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলাম।
দোতলা থেকে বাগানের দৃশ্য

দোতলায় উঠে রেলিং থেকে নিচে তাকালাম। রিভিউতে বলা “সিঁড়ি থেকে ছবি তুললে জীবনের সেরা ছবি” – একদম সত্যি। নিচে গ্রীষ্মমন্ডলীয় গাছের মাঝে ছোট সেতু, ঝর্ণার পুকুর আর ছবি তুলতে দাঁড়ানো মানুষ। পুকুরে আসল কই মাছ আছে – বাচ্চারা আর ছাড়তে চায় না। সিঁড়ির মতো বসার জায়গায় অনেকে পানীয় নিয়ে বসে, এটাই সেরা দৃশ্যের জায়গা, তাই সিট পাওয়া কঠিন। ছাদের সাজসজ্জা ও নিচের বাগান এক ফ্রেমে – যেখান থেকেই ছবি তুলি দারুণ লাগে।
ঝর্ণার পুকুর ও ফটোজোনের ছোট সেতু

নিচতলার বাগান আরও কাছ থেকে দেখলাম। ঝর্ণার পুকুরের ওপর একটা ছোট সেতু – প্রতিটি ব্লগে এখান থেকে ছবি থাকে। গিয়ে দেখি সত্যিই লাইন। এত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ আছে।
বিশাল ক্যাফে Forest Outings এ অর্ডার পদ্ধতি

নিচতলার কাউন্টার। ORDER লেখা সাইনের নিচে চারটি মনিটরে মেনু, কর্মীরা এক মুহূর্তও থামছেন না। কেউ লিখেছিলেন কর্মীরা ব্যস্ত – অত্যুক্তি নয়। পানীয় কাউন্টারে অর্ডার, পাশের শোকেস থেকে পছন্দের বেকারি প্লেটে নিয়ে একসাথে বিল। ভাইব্রেটিং বেল পেয়ে অপেক্ষা। উইকেন্ডে লাইন ছিল, কিন্তু দ্রুত এগোচ্ছিল।
ব্রাঞ্চ মেনু – পিজ্জা ও পাস্তা


পিকআপ কাউন্টারে ব্রাঞ্চ মেনু দেখে ছবি তুললাম। পেপারনি হালাপেনো পিজ্জা ও ক্রিম পাস্তা – পরিমাণ অনেক। এবার অর্ডার করিনি, কিন্তু পাশের টেবিলে দেখে মনে হলো পরেরবার অবশ্যই খাব। কিচেন বন্ধ হয় সন্ধ্যা ৮টায়, খাবার নিতে চাইলে সময় মনে রাখবেন।
Forest Outings এর বেকারি শোকেস



বেকারি শোকেসের সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম। সসেজ ক্রোয়াসনে সস ও পার্সলে, ক্রিম চিজ পেস্ট্রি ও স্কোন ট্রে ভর্তি। Forest Outings লোগো স্টিকার দেওয়া চকোলেট কেক বারের কাটা অংশ দেখে চোখ আটকে গেল। রিভিউতে লেখা “এত রকম যে বেছে বেছে ক্লান্ত” – এসে পুরোপুরি বুঝলাম।
আরও সৌন্দর্য বিশাল ক্যাফে Forest Outings এ



বেকারি বেছে আবার ভিতরে গেলাম – ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছিল না। একটা রিবন দেওয়া সেতু পেরোতেই হঠাৎ পাম গাছ, জলের চ্যানেল ও ভাসমান গোলাকার লাইট। কাউন্টারের পাশেই এমন জায়গা আছে ভাবা যায় না। পুকুরের সামনে ঘুরে দেখলাম – সিঁড়িতে মানুষ ভর্তি, ছাদে ফুলের সাজসজ্জা। একটা ফোনে ধরা অসম্ভব। কেউ বলেন খেলার পার্কের মতো, কেউ বলেন বোটানিক্যাল গার্ডেনের সাথে ক্যাফে – দুটোই সত্যি। বাচ্চারা মাছ দেখতে চায় না চলে, আমরা লাইটের নিচে কফি নিয়ে বসে সময় কাটালাম।
অভ্যন্তরীণ হাঁটার পথ

পুকুর দেখতে দেখতে বেরোনোর পথে একটা পাথরের রাস্তা দেখলাম, দুপাশে ঘন গাছ, শেষে সিঁড়ি। ক্যাফের ভিতরে এমন হাঁটার পথ থাকবে ভাবিনি। বাচ্চারা আগে দৌড়ালো, দেখি বাইরের দিকে যাচ্ছে।
ইলসান Forest Outings এর সত্যিকারের রিভিউ
শুধু কফি খেতে গিয়েছিলাম, বেরিয়ে দেখি ফোনে ৫০টির বেশি ছবি। সবাই খুশি, বাচ্চারা যেতে চায়নি। সত্যি বলতে পানীয়ের স্বাদে জেতা ক্যাফে নয়। আমেরিকানো ৫ ডলার – বিশাল ক্যাফের জন্য সাধারণ, বিশেষ কিছু না। কিন্তু এখানে সেটা মূল বিষয় নয়। গাছের মাঝে কফি হাতে হাঁটা, পুকুরের সামনে বসে থাকা – এই সময়টাই এখানকার মূল্য।
Forest Outings ভিজিটের টিপস
উইকেন্ডে অনেক ভিড়। শান্তিতে উপভোগ করতে সপ্তাহের দিন সকালে যান। পার্কিং ফ্রি ও প্রচুর, স্ট্রলার দোতলায় যায় – ছোট বাচ্চাদের পরিবারের জন্য দারুণ। কিচেন বন্ধ ৮টা, পানীয় ৯টা। পরেরবার পিজ্জা-পাস্তা খাব। ঠিকানা: গোয়াং শহর, ইলসান অঞ্চল, সিওল থেকে এক ঘণ্টা। খোলা থাকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা।
এই পোস্টটি মূলত প্রকাশিত হয়েছে https://hi-jsb.blog-এ।