জাদুকরী বড় উপহারের বক্স ক্যাফে: দক্ষিণ কোরিয়ার স্টোন ফলস
দক্ষিণ কোরিয়ার স্টোন ফলস: বিলাসবহুল বড় ক্যাফে ভ্রমণের এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা
আমি দেজনে বাস করলেও মাঝেমধ্যে পাশের শহর ছংজুতে যাই, যেখানে দেজনের চেয়েও সুন্দর অনেক ক্যাফে আছে। তার মধ্যে স্টোন ফলস এর বিশাল আয়তন এবং রাজকীয় পরিবেশ আমাকে অবাক করেছে। উঁচু ছাদ থেকে ঝোলানো লণ্ঠন এবং চমৎকার বেকারির সমাহার একটি আধুনিক কোরিয়ান ক্যাফের আসল রূপ তুলে ধরে। এই ক্যাফেটির বিশেষ প্রশস্ততা এবং আকর্ষণগুলো এখন আপনাদের বিস্তারিত জানাবো।
উপহারের বক্সের মতো চমৎকার এক্সটেরিয়র এবং ফটো জোন
ছংজু স্টোন ফলস ক্যাফেতে পৌঁছানোর সাথে সাথেই যা চোখ কেড়ে নেয় তা হলো ভবনের সামনের বিশাল লাল রিবন সাজসজ্জা। পুরো ক্যাফেটি যেন কারো জন্য যত্ন করে প্যাক করা একটি বড় ক্রিসমাস উপহারের বক্সের মতো দেখায়। স্টোন ফলস লেখার ওপরে জ্বলজ্বল করা ছোট ছোট আলোগুলো শীতের বাতাসকেও উষ্ণ করে তোলে। প্রবেশপথের দুই পাশের পিলারেও রিবনের নিখুঁত কাজ থাকায় এখানে দাঁড়িয়ে তোলা ছবিগুলো অসাধারণ দেখায়।
প্রবেশপথের একপাশে ক্রিসমাস টুপি পরা হাসি খুশি জিঞ্জারব্রেড ম্যান এয়ার বেলুন দর্শনার্থীদের স্বাগত জানায়। পায়ের কাছে রাখা লাল উপহারের বক্স এবং ক্যান্ডি কেইন সাজসজ্জা ছোট-বড় সবার জন্যই একটি নিখুঁত ফটো জোন তৈরি করেছে। এই নিখুঁত সাজসজ্জার কারণে ক্যাফেতে প্রবেশের আগেই মনে হয় কোনো বিশেষ পার্টিতে আমন্ত্রিত হয়েছি।
রূপকথার রাজ্যের মতো চমৎকার ইন্টেরিয়র
ক্যাফের ভেতরের দেয়ালগুলো যেন কোনো ক্রিসমাস উৎসবের সাজসজ্জায় ভরা। অনেকগুলো বড় টেডি বিয়ার দিয়ে তৈরি করা একটি বিশেষ ট্রি এবং তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সান্তাক্লজ পুতুল বছরের শেষের উষ্ণ ও আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করে। বিশেষ করে লাল ফায়ারপ্লেস এবং চারপাশে রাখা উপহারের বক্সগুলো রূপকথার গল্পের মতো একটি দৃশ্য তৈরি করে। ভিনটেজ সাইনবোর্ড এবং আলোর বিন্যাস এই জায়গাকে শুধু কফি পানের জায়গা নয়, বরং স্মৃতি তৈরির এক অসাধারণ স্থানে পরিণত করেছে।
ছংজু স্টোন ফলসের ভেতরটা যেমন প্রশস্ত, তেমনি এর ক্রিসমাস সাজসজ্জাও রাজকীয়। সাদা রঙের অনেকগুলো টেডি বিয়ার স্তূপ করে তৈরি করা বড় ট্রি ফটো জোনটি সবার নজর কাড়ে। লাল ফায়ারপ্লেস, সান্তাক্লজ এবং চারপাশে ছড়িয়ে থাকা রঙিন উপহারের বক্সগুলো আপনাকে রূপকথার গ্রামে আসার অনুভূতি দেবে।
দ্বিতীয় তলার রেলিংয়ে সারিবদ্ধভাবে বসা বড় বড় টেডি বিয়ারগুলো পরিবেশে প্রাণ যোগ করে। ভিনটেজ সাইনবোর্ড এবং আধুনিক ছাদের নকশা এই সাজসজ্জার সাথে চমৎকারভাবে মিশে গেছে। ক্যাফের যেদিকেই তাকান না কেন ক্রিসমাসের উষ্ণতা অনুভব করা যায় এবং ওপর থেকে দেখা ক্যাফের দৃশ্যটি যেন কোনো বিশাল উৎসবের আমেজ দেয়।
দেয়ালের সামনে থাকা বড় ট্রিটি গোল্ডেন সাজসজ্জা এবং লাল রিবনের সমন্বয়ে অসাধারণ দেখায়। ট্রির পেছনের দেয়ালে থাকা ভিনটেজ ঘড়ির যন্ত্রাংশ এবং পাইপ স্ট্রাকচার স্টোন ফলস ক্যাফেকে একটি আধুনিক রূপ দিয়েছে। গাছের শাখাগুলোতে থাকা লাল রিবন এবং ছাদের উষ্ণ আলো শীতের এক জাদুকরী ফটো জোন তৈরি করেছে।
স্টোন ফলসের বিশেষ বেকারি মেনু
সবচেয়ে অদ্ভুত ও জনপ্রিয় মেনু হলো কোল ব্রেড বা কয়লা রুটি। দেখতে হুবহু কয়লার মতো এই রুটিটি কোরিয়ার পুরনো দিনের আবেগকে ধারণ করে, যা বিদেশি পর্যটকদের কাছেও খুব জনপ্রিয়। বাইরে থেকে দেখতে শক্ত মনে হলেও ভেতরে নরম ও মিষ্টি ক্রিমে ঠাসা থাকে, যা একটি চমৎকার স্বাদের অভিজ্ঞতা দেয়।
এই কয়লা রুটিটি স্টোন ফলসের সিগনেচার মেনু হিসেবে কোরিয়ানদের যেমন স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, তেমনি বিদেশিদের জন্য এটি একটি দারুণ চমক। এই রুটির গঠন এবং ভেতরে থাকা ক্রিমের স্বাদ মুখ ও চোখ উভয়কেই তৃপ্তি দেয়। যদি কোনো বিদেশি বন্ধু ছংজুতে আসে, তবে তাকে অবশ্যই এই বিশেষ ডেজার্টটি খাওয়ানো উচিত।
সাথে সাজিয়ে রাখা তিরামিসু কেকগুলোও বেশ সুস্বাদু দেখায়, যা স্টোন ফলসের বেকারির মান প্রমাণ করে। যদিও এবার শুধু ছবি তুলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে, কিন্তু বিদেশি বন্ধুদের সাথে আসলে এই বিশেষ ডেজার্টগুলো তাদের অবশ্যই দারুণ লাগবে। বেকারির সব ছবি হাই-জেএসবি সাইটের নিচে সংগ্রহ ফিচারে দেখতে পাবেন।
স্টোন ফলসে বিভিন্ন সিজন অনুযায়ী নতুন নতুন মেনু বিক্রি করা হয়, যার ফলে প্রতি ঋতুতে এখানে এসে নতুন স্বাদের আনন্দ নেওয়া যায়。
বিচিত্র সব বসার জায়গা এবং ভ্রমণের অনুভূতি
ছংজু স্টোন ফলস যেমন বিশাল আয়তনের, তেমনি এর ভেতরে বসার জায়গার বৈচিত্র্যও মুগ্ধ করার মতো। প্রথম তলার প্রশস্ত জায়গা ছাড়াও দ্বিতীয় তলা থেকে পুরো ক্যাফের দৃশ্য দেখা যায়। এছাড়াও দুই তলার মাঝামাঝি জায়গায় সিঁড়ির মতো বসার জায়গা রয়েছে, যেখানে বসে ক্যাফের প্রাণবন্ত শক্তি অনুভব করা যায়।
এটি শুধু এক কাপ কফি খাওয়ার জায়গা নয়, প্রবেশপথের বিশাল রিবন থেকে শুরু করে ভেতরের টেডি বিয়ার ট্রি পর্যন্ত সবকিছুই আপনাকে একটি বিশেষ উপহারের মতো অনুভূতি দেবে। যদিও ছুটির দিনে এখানে অনেক ভিড় থাকে, তবুও এর জীবন্ত পরিবেশ এবং ইউনিক কয়লা রুটি আপনার ভ্রমণকে সার্থক করবে।
আসন্ন উৎসবের সময় প্রিয়জনদের সাথে বিশেষ স্মৃতি তৈরি করতে চাইলে এই ক্যাফেটি অবশ্যই আপনার তালিকায় রাখুন। চমৎকার ছবির সাথে শীতের উষ্ণ আমেজ নেওয়ার জন্য এটি সেরা জায়গা হবে। আমার নিজেরও এই ভ্রমণটি বেশ ভালো লেগেছে এবং পরে কোনো এক অলস সময়ে আবার এখানে আসার ইচ্ছা আছে।
ক্যাফে সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য নিচের ক্যাফে সেকশনে দেখে নিন!
...